বিশেষ ঘোষণা

বিশেষ ঘোষণাঃ কারিগরি কারণ বশতঃ বেশ কিছু বইয়ের লিঙ্ক কাজ করছে না। সেগুলো ধীরে ধীরে ঠিক করে দেওয়ার কাজ চলছে। কিছু বই অপেক্ষাকৃত ভালো করতে গিয়ে একটু সময় লাগছে। ফেসবুক গ্রুপে প্রত্যেক আপডেট জানিয়ে দেওয়া হবে। মাঝে মাঝে নতুন বই দেবার ও চেষ্ট চলছে ।

স্বপন কুমার

বাংলা ভাষার সমস্ত লেখক - এক জায়গায় ক্রমানুসারে

স্বপন কুমার (সমরেন্দ্রনাথ পান্ডে)
জন্ম - ২৬শে অক্টোবর, ১৯২৭                                                               মৃত্যু - ১৫ই নভেম্বর, ২০০১
রাজশাহী, বাংলাদেশ                                                                                                কলকাতা, ভারত

সৃষ্ট চরিত্র ঃ দীপক চ্যাটার্জী, রতনলাল
অ্যান্টি হিরো ঃ দস্যুনেত্রী কালনাগিনী, ড্রাগন, বাজপাখি, কালোনেকড়ে ও আরও অনেক।

আসল নাম সমরেন্দ্রনাথ পান্ডে। কনৌজের এই ব্রাহ্মণ পরিবারটির আদি বসতবাড়ি ছিল রাজশাহি। বাবা-ঠাকুরদা ব্যারিস্টার। আইনজীবী পরিবারে জন্ম হলেও সমরেন্দ্রনাথের ইচ্ছে ছিল ডাক্তারি পড়ার। কৈশোরেই, মাত্র ১৪ বছর বয়সে চলে আসেন কলকাতায়। এক সময় ভর্তিও হন আর.জি.কর. মেডিকেল কলেজে। কিন্তু, অর্থাভাবে দ্বিতীয় বর্ষে ছেড়ে দিতে হয় ডাক্তারি। এর পরই তাঁর 'শ্রীস্বপনকুমার' হয়ে ওঠা। বলা যায় রোজগারের জন্যই। সমরেন্দ্রনাথ ছিলেন উদারমনা, আদর্শবান একজন মানুষ। কিন্তু, তাঁর মধ্যেও তাঁর সম্মানবোধ, জেদ ছিল দেখার মতো। অনেকটা সে কারণেই এক সময় তিনি শ্রীভৃগু নাম নিয়ে জ্যোতিষচর্চা শুরু করেন। এ নিয়ে তিনি প্রচুর বইও লেখেন। আবার অন্য দিকে রেজিস্ট্রেশন সহ ডাক্তার ও হন। তাঁর লেখা অসংখ্য ডাক্তারি বইও আছে ডক্টর এস.এন. পান্ডে নামে। আছে মোটর ড্রাইভিং, ট্রানজিস্টার তৈরী থেকে সবজি চাষের বই ও। এক সময় টাকা রোজগারের জন্যই মুম্বই গিয়েছিলেন । সেখানে বিশেষ সম্মান বা অর্থ না পেয়ে ফিরে আসেন। অনেকে তাঁর 'শ্রীস্বপনকুমার' সিরিজের লেখাকে মার্কিন লেখক রবার্ট লেসলি বেলামের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি প্রচুর বই নানা বিষয়ে লিখে গেলেও সেভাবে অর্থ প্রাপ্তি ঘটেনি। সংসারের অর্থাভাব সামলাতে শ্যামনগর থেকে কলকাতার বিখ্যাত বটতলায় বসে ফরমায়েসি লেখা কমপ্লিট করে প্রকাশকের হাতে দিয়ে সামান্য যা পেতেন, তাই দিয়ে বাজার করে ঘরে ফিরতেন। রয়্যালটির পয়সা সেভাবে তিনি পেতেন না। 

বাংলা ভাষায় সম্ভবত স্বপন কুমারই প্রথম পাল্প ফিকশন লেখক। মিস্ট্রি-থ্রিলার-এডভেঞ্চার-হরর ভিত্তিক চটি বই গুলকেই পাল্প ফিকশন বলা হয় যার কোন সাহিত্য কদর নেই, কিন্তু রক্তে আলোড়ন তোলে। পাল্প ফিকশনকে কোনদিন সাহিত্য বোদ্ধারা সাহিত্য বলে গণ্য করেনি সে কারণে পাল্প ফিকশন লেখকরা যতদিন লেখেন ততদিন খ্যাতির শিখরে থাকেন, মৃত্যুর পরে আস্তাকুরে চলে যায়। সাহিত্য বোদ্ধাদের অভিমত পাল্প ফিকশনগুলো লেখা হয় শুধুই মনোরঞ্জনের জন্য, পয়সার আশায়। তাদেরই একজন হলেন শ্রীস্বপন কুমার। বাংলা সাহিত্যে স্বপন কুমারের মতো জনপ্রিয় পাল্প ফিকশন লেখক কেউ হতে পারেনি।

স্বপনকুমারের চটি বইয়ের মারকাটারী জনপ্রিয়তার কারণ ছিল বইয়ের মাপ। এতটাই ছোট যে পড়ার বইয়ের মাঝে লুকিয়ে রেখে পড়ে ফেলা যায়। ভাঁজ করে দিব্যি পকেটে লুকিয়ে রাখা যায়! বইয়ের প্রচ্ছদে নারীচরিত্রগুলো আবার বিশেষ যত্ন নিয়ে আঁকা হত। প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে নারায়ণ দেবনাথ ছিলেন লেখকের ‘ফেভারিট’। রঙিন প্রচ্ছদ, ভেতরে সাদা-কালো ছবি। কোনও কোনও প্রকাশক শিরোনামের নীচে লিখে দিতেন, ‘কলেজ স্টুডেন্টদের জন্য’! অল্পবয়েসি স্কুলপড়ুয়ার কাছে ঐ বইগুলো ছিল বাড়তি নিষিদ্ধ আকর্ষণ। 

ওনার লেখা নিয়ে অনেক মজা চালু থাকলেও বা ওনার সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র দীপক চ্যাটার্জি ও সহকারী রতনলাল বিদ্ব সমাজে ব্রাত্য থাকলেও কেউ একবার এই বই গুলি পড়তে শুরু করলে শেষ না করে ছাড়তে পারতেন না। তাঁর বিখ্যাত সিরিজ গুলির মধ্যে ড্রাগন সিরিজ, বাজপাখি সিরিজ, কালনাগিনী সিরিজ, কালো নেকড়ে সিরিজ, বিশ্বচক্র সিরিজ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। আজও তাঁর লেখা চটি বই গুলো নিয়ে সমগ্র আকারে কিছু পাবলিশার বের করছে, যা এখনও অন্যতম বেস্ট সেলার। কিন্তু তিনি জীবিত অবস্থায় লেখক হিসেবে কোনদিন বিন্দুমাত্র সম্মান পান নি।

নীচে তার রচনার ওপর ক্লিক করলে নির্দিষ্ট বইটি পেতে পারেন।




একটি আবেদন - 
কেউ যদি কোনো বই/ পত্রিকা স্ক্যান করতে / দিতে চান 
বা সূচীপত্র ও.সি.আর. করতে চান - 
তাহলে নিচের ইমেলে যোগাযোগ করবেন 

babuipakhi819@gmail.com 

No comments:

Post a Comment